bangladesh-skill-development-future-investment

বাংলাদেশে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কেন ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

বাংলাদেশে চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে টিকে থাকতে শুধু ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। স্কিল ডেভেলপমেন্ট কীভাবে একজন মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে—এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পাশ করলেও বাস্তব জীবনের চাকরির বাজারে তারা পিছিয়ে পড়ছে। এর মূল কারণ হলো—স্কিল গ্যাপ। শুধু সার্টিফিকেট থাকলেই আর চাকরি পাওয়া যায় না; প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা। বর্তমান বিশ্বে স্কিল ডেভেলপমেন্ট বলতে শুধু কম্পিউটার শেখাকেই বোঝানো হয় না। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনটেন্ট রাইটিং, এমনকি কমিউনিকেশন স্কিল ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ যদি সময়মতো সঠিক স্কিল শিখতে পারে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আমূল পরিবর্তন সম্ভব। কারণ স্কিলড মানুষ শুধু চাকরি করে না—সে চাকরি তৈরি করে। একজন দক্ষ ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারে, স্টার্টআপ গড়ে তুলতে পারে, কিংবা অন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন স্কিল শেখার সুযোগ এখন হাতের মুঠোয়। ইউটিউব, অনলাইন কোর্স, লাইভ ট্রেনিং প্ল্যাটফর্ম—সবকিছুই এখন সহজলভ্য। তবে সমস্যা হলো, সবাই সঠিক দিকনির্দেশনা পায় না। অনেকেই কী শিখবে, কোথা থেকে শুরু করবে—এই দ্বিধায় পড়ে যায়। এখানেই প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্কিল শেখানো হবে বাস্তব উদাহরণসহ, ধাপে ধাপে, এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। কারণ বিদেশি কনটেন্ট সবসময় আমাদের বাস্তবতার সাথে মেলে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোনো একদিনের কাজ নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রযুক্তি যেমন পরিবর্তন হচ্ছে, তেমনি স্কিলও আপডেট করতে হবে। যে ব্যক্তি আজ শেখা বন্ধ করে দেয়, সে আগামীকাল পিছিয়ে পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, স্কিল ডেভেলপমেন্ট শুধু ব্যক্তির উন্নয়ন নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ। আজ যারা স্কিল শিখছে, আগামী দিনে তারাই হবে দেশের চালিকাশক্তি।